Pages - Menu

তবিশ খৈর

তবিশ খৈর : ভাষা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সমকাল এক আশ্চর্য দ্রাব্যতায় একাকার হয়ে যায় এতবিশ খৈরের কবিতায়। অস্তিত্ব,  খণ্ড সত্তার  অনুভূতি,ইতিহাসের ব্যবহৃত পৃষ্ঠা এসবকিছুর ভেতর এক মিতবাক, ভ্রমণরেখার সন্ধান দেন তবিশ তাঁর  ইংরাজি কবিতায়। “হোয়্যার প্যারালাল লাইনস মিট’’ এবং “ম্যান অফ গ্লাস” কবিতার বইদুটি ছাড়াও “দা বাস স্টপড’’, “ফিল্মিং’,’থিংস অ্যাবাউট থুগস’’ তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। ১৯৬৬ সালে বিহারের গয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তবিশ।এবং একজন “স্মল টাউন কসমোপলিটান” হিসেবে গয়াতেই বেড়ে ওঠেন। বর্তমানে ডেনমার্কের আরহাস বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন ।



তবিশ খৈর এর কবিতা

চোখ

(ঠাকুমা)

মৃতরা একদিন বেঁচে ছিল,
আর জীবিতরা এখন মৃত।

ঠাকুমা বলতেনঃ
মৃতরা নাকি আমাদের থেকে ভালো অবস্থায় আছে
ওদের আর ফিরে আসতে হয়না।
আর মরে যাওয়ার পর নাকি অনেক কিছু জানাও যায়।
চোখগুলো অবশ্য মরতে পারে না।

ওর চোখদুটো খুব শান্ত ছিল
ওর চোখদুটো এখন আকাশের তারা হয়ে গিয়েছে।

ওরা ওর চোখের ওপর দুটো কয়েন রেখেছিল
মুখের ওপর কিছুটা মাটি ছড়িয়ে দিয়েছিল আর
মাথার নীচে একটি পাথর রেখে দিয়েছিল

কিন্তু মাটি ওকে রেখে দিতে চায়নি।
পরের বোমটাই গোরস্থানের ওপর আছড়ে পরেছিল।
মৃতরাও আবার ফিরে এসেছিল
মৃতদের অবস্থাও আমাদের থেকে খুব একটা ভালো না।

আমার সন্দেহ হয়
মৃতরাও খুব একটা কিছু
জানে না।
তবে আমি বিশ্বাস করি
চোখগুলো কোনদিন
মরতে পারে না।


যুদ্ধের রিপোর্টার

(বুড়ি গাছ-মা)

লোকটা যাকিছু দ্যাখে, সেটাই স্টোরি হয়ে যায়
যেটা ছোঁয়,সেটা থেকেই একটা ঘটনা বেরিয়ে আসে

ছেলেদের জড়ো করে, খুব ধীরে ধীরে
সারি বাঁধা চায়ের কেটলি থেকে গল্প ঢালতে থাকে লোকটা
কিন্তু ও কি ,ঐ মেয়েটার গল্পটা বলবে
যে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকত?

অথবা ঐ ছেলেটার গল্প
যে শুকনো খটখটে মাটিতে ভিজে অবস্থায় পড়েছিল?

অথবা ঐ বাচ্চাদের গল্পটা
যারা সবসময় শুধু আকাশের ভেতর দিয়ে উড়ে যেত?

লোকটা কি কোনদিন বলবে যে বাচ্চাগুলোর বাবা মায়েরা
হাঁটতে হাঁটতে তোমার বাড়ির দিকেই এগিয়ে এসেছিল?


যান্ত্রিক

(নাইটিংগেল)

এর ডাকটা আদৌ কাঁচের ঘণ্টার মত নয়।
অনেকটা বন্দুকের মত এর আওয়াজ।

এই আশ্চর্য যন্ত্রটাকে বানাতে নিশ্চয়
অনেক মেহনত করতে হয়েছে!

যদি এর ডানা থাকত,তবে এ ঠিক উড়ত।
জিভ থাকলে, কথাও বলতে পারত।

কিন্তু,বারবার ঐ একটি গানই গাইতঃ
আমরা কি ঐ গানটি শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়ে যেতাম না?


প্রার্থনা

(থাম্বেলিনা)

আমাকে একটি ছোট বাচ্চা দাও
আমি তাকে লুকিয়ে রাখব
যখন মোল্লারা বাড়িতে নামাজ পড়তে আসবে,
যখন প্লেনগুলি শিকারের পাখি হয়ে যাবে।

যে কোন একজন
আমার বুড়ো আঙুলের থেকে ছোট কেউ
যাকে আমি পকেটে ঢুকিয়ে দৌড়ে পালাব।


(অনুবাদ : শৌভিক দে সরকার)













  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন