এ মাসের কবি –
জুন ২০১৪ – অমিতাভ
মৈত্র
এ মাসের কবি –
জুন ২০১৪ – অমিতাভ মৈত্র
অমিতাভ মৈত্রর
জন্ম ১৯৫২ সালে। প্রথম কাব্যগ্রন্থ বিদ্ধ করো, তীর প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। তাঁর
অন্য কবিতার বইগুলি হোলো পতনকথা, টোটেমভোজ, ষাঁড় ও সূর্যাস্ত আর পিয়ানোর সামনে বিকেল। গদ্যগ্রন্থ
দুটি। পতনশীল নায়ক আর সাপলুডো। অন্যরকম মানুষ। পরিচিতজনেরা জানেন। অন্যরকম
কবিতা। পাঠক জানেন। অনন্য কাব্যভাষায় তাঁর পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখেন বললে...
না। একটুও বাড়িয়ে বলা হয়না। আসুন, অমিতাভ মৈত্রের একগুচ্ছ তরতাজা কবিতায়।
অমিতাভ
মৈত্রের কবিতা
পরমতা
সবার চেয়ে বড়ো কোনো ভয় যাকে চালায়
যার হাত পড়ে আছে এমন এক প্রান্তে যেখানে কারো পা পড়েনা
ডুবে মরে যাওয়া থেকে তাকে রক্ষা করে
যে গাছ
আর সৌজন্য দেখিয়ে গলায় দড়ি বেঁধে
ঝুলতে দেয়
সেই পরম বিস্ময়কে উপহার দেবে বলেই সে
লাল এই সার্ট আর দু’মিটার
সিরিঞ্জ নিয়ে যাচ্ছে সাথে
দিকভ্রান্তি
লোহার ব্রিজ পর্যন্ত তোমার নাম আমি জানতাম
কিন্তু ব্রিজ
থেকে নেমে ভুলে যাই
উর্দি দেখে মনে হয় মশাল নেভানোর কাজ করো
কিন্তু মশাল
কারা জ্বালায় তুমি জানোনা
রাস্তায় দু’পাশের ঘাস বড়ো আর ঘন হয়ে উঠছে
একটু পরেই তুমি
হারিয়ে যাবে হয়তো
এতো ভালভাবে চিনি এই দরজা যে অনেকদূর পর্যন্ত আমি
বর্জন করতে পারি
তোমাকে
রহস্য
কীভাবে এই বর্ষাতি তৈরি হয় জানলে তুমি অবাক হয়ে যাবে হেনরি
কালো একটা স্নাব-নোজ রিভলবার
চারদিন হন্যে
হয়ে খুঁজে বেরিয়েছে তোমাকে
একশো সাঁইত্রিশ জন হেনরি, প্রত্যেকের বর্ষাতি তোমার মতো
এদের মধ্যে তোমাকেই হয়তো আজ নায়কের সম্মান দেওয়া হচ্ছে
যখন একজন হেনরির কোমরে গুলি লাগছে
আর বলরুমে গড়িয়ে
পড়ছে আরেকজন
শোক
দশ কিলোমিটার পর্যন্ত আশা করার কিছু নেই
আমার কুকুর তবু
আমার জন্য কাঁদছে
আলোয় ঝকঝক করছে সাদা হলঘর
কাচের জানলা
ভর্ৎসনা করছে কাউকে
কে যেন শাস্তি পাচ্ছে শরীরভর্তি ঘায়ে
বোকার মতো মলম
লাগানোর জন্য
দশ কিলোমিটার পর্যন্ত আশা করার কিছু নেই
আমার কুকুর শুধু
আমার জন্য কাঁদছে
স্পষ্টতা
যে অজুহাত এই আগুনের মধ্যে খুঁজে বেড়ায় হেনরি তা আর নেই
তবু মাঝেমাঝেই শব্দ করে ধাক্কা দেয় দরজায়
যেন এভাবেই সে
সান্ধ্য আইন ভাঙছে
তার অস্তিত্বের আধখানাই প্যারাফিন,
বাকি অর্ধেক কী
সে জানেনা
শুধু পশম কাটার সময় তার শিহরণ মাঝেমাঝেই স্পষ্ট হয়ে যায়
আর খিদে স্পষ্ট হয়ে যায়
যখন সাদা ফ্রিজ
সে চেপে ধরে পেটের ওপর
হুডউইংক
অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে
এক সময় আমি একটা মাছ দেখতে পেলাম।
নিজেকে বললাম – এটা ঠিক নয়।
এখানে তুমি এসেছ শুধু একটা গাঢ় পিচফলের অভিব্যক্তির জন্য।
মিথ্যে বলেছিলাম।
গাঢ় পিচফলের অভিব্যক্তি নয়।
আসলে ঐ মাছটাকেই তখন আমি দেখতে চেয়েছিলাম।
জল-যক্ষ
আর একবার যদি তিপ্পান্ন মিনিট পাই
আমি আদিগন্ত অন্ধকার এই মরুভূমির অনেক নিচে
ছোট্ট আর মিষ্টি জলের কুয়োয় বদলে দেব তোমাকে
গভীর স্তব্ধতার ভেতর আমার না-দেখা ছুঁয়ে তখন
তোমার স্পন্দন উঠে আসবে
জল-যক্ষের মতো
দংশন
লম্বা শ্বাস নিতে নিতে একসময় দংশন আর বিব্রত করে না।
যেন সামনে অনন্ত রেললাইন অনন্ত রাত্রি একটানা বাঁশির আওয়াজ –
আর অভ্যস্তভাবে থাবা চাটতে চাটতে সাদা বেড়াল সন্তদের কাছে চলে যাচ্ছে।
করোনার রুম থেকে ফেরার সময় অন্ধকারে ধাক্কা লেগেছিল কারো সাথে।
লম্বা শ্বাস নিতে নিতে সামলে নি। দংশন আর বিব্রত করে না।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
দিকভ্রান্তি আর জলযক্ষ এইদুটো ভাল্লাগ্লো। বাকিগুলো দুমদাম শব্দের কোলাজ , কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল।
উত্তরমুছুনশুভেচ্ছা কবি।
Egulokay vaalo kabita boltay bistar asubidhay hochhay. shabda aachhay, praan nei
উত্তরমুছুনকিছুই যখন বুঝলাম না ইনি নিশ্চয়ই খুব বড় কবি। বাকের সম্পাদক মশাই তো বলেইছেন আমাকে এখনও অনেক সময় দিতে হবে আমার কবিতার পেছনে।
উত্তরমুছুনDikbhranti r rohoshyo ei kobita duti amay wrini kore rakhlo amitava da. Ami apnar ekjon oporichito pathok bar bar hariye feli baak...
উত্তরমুছুনথ্যাঙ্কু অনুপম !
উত্তরমুছুনভালোই বোধহয় , তবে কিছু বুঝলাম না
উত্তরমুছুন- অভিজিৎ পালচৌধুরী