• কবিতা সুর্মা


    কবি কবিতা আর কবিতার কাজল-লতা জুড়ে যে আলো-অন্ধকার তার নিজস্ব পুনর্লিখন।


    সম্পাদনায় - উমাপদ কর
  • ভাবনালেখা লেখাভাবনা


    কবিতা নিয়ে গদ্য। কবিতা এবং গদ্যের ভেদরেখাকে প্রশ্ন করতেই এই বিভাগটির অবতারণা। পাঠক এবং কবির ভেদরেখাকেও।


    সম্পাদনায় - অনিমিখ পাত্র
  • সাক্ষাৎকার


    এই বিভাগে পাবেন এক বা একাধিক কবির সাক্ষাৎকার। নিয়েছেন আরেক কবি, বা কবিতার মগ্ন পাঠক। বাঁধাগতের বাইরে কিছু কথাবার্তা, যা চিন্তাভাবনার দিগন্তকে ফুটো করে দিতে চায়।


    সম্পাদনায়ঃ মৃগাঙ্কশেখর গঙ্গোপাধ্যায়
  • গল্পনা


    গল্প নয়। গল্পের সংজ্ঞাকে প্রশ্ন করতে চায় এই বিভাগ। প্রতিটি সংখ্যায় আপনারা পাবেন এমন এক পাঠবস্তু, যা প্রচলিতকে থামিয়ে দেয়, এবং নতুনের পথ দেখিয়ে দেয়।


    সম্পাদনায়ঃ অর্ক চট্টোপাধ্যায়
  • হারানো কবিতাগুলো - রমিতের জানালায়


    আমাদের পাঠকরা এই বিভাগটির প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন বারবার। এক নিবিষ্ট খনকের মতো রমিত দে, বাংলা কবিতার বিস্মৃত ও অবহেলিত মণিমুক্তোগুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে আনছেন, ও আমাদের গর্বিত করছেন।


    সম্পাদনায় - রমিত দে
  • কবিতা ভাষান


    ভাষা। সে কি কবিতার অন্তরায়, নাকি সহায়? ভাষান্তর। সে কি হয় কবিতার? কবিতা কি ভেসে যায় এক ভাষা থেকে আরেকে? জানতে হলে এই বিভাগটিতে আসতেই হবে আপনাকে।


    সম্পাদনায় - শৌভিক দে সরকার
  • অন্য ভাষার কবিতা


    আমরা বিশ্বাস করি, একটি ভাষার কবিতা সমৃদ্ধ হয় আরেক ভাষার কবিতায়। আমরা বিশ্বাস করি সৎ ও পরিশ্রমী অনুবাদ পারে আমাদের হীনমন্যতা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরটি সম্পর্কে সজাগ করে দিতে।


    সম্পাদনায় - অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়
  • এ মাসের কবি


    মাসের ব্যাপারটা অজুহাত মাত্র। তারিখ কোনো বিষয়ই নয় এই বিভাগে। আসলে আমরা আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালবাসার কবিকে নিজেদের মনোভাব জানাতে চাই। একটা সংখ্যায় আমরা একজনকে একটু সিংহাসনে বসাতে চাই। আশা করি, কেউ কিছু মনে করবেন না।


    সম্পাদনায় - নীলাব্জ চক্রবর্তী
  • পাঠম্যানিয়ার পেরিস্কোপ


    সমালোচনা সাহিত্য এখন স্তুতি আর নিন্দার আখড়ায় পর্যবসিত। গোষ্ঠীবদ্ধতার চরমতম রূপ সেখানে চোখে পড়ে। গ্রন্থসমালোচনার এই বিভাগটিতে আমরা একটু সততার আশ্বাস পেতে চাই, পেতে চাই খোলা হাওয়ার আমেজ।


    সম্পাদনায় - সব্যসাচী হাজরা
  • দৃশ্যত


    ছবি আর কবিতার ভেদ কি মুছে ফেলতে চান, পাঠক? কিন্তু কেন? ওরা তো আলাদা হয়েই বেশ আছে। কবি কিছু নিচ্ছেন ক্যানভাস থেকে, শিল্পী কিছু নিচ্ছেন অক্ষরমালা থেকে। চক্ষুকর্ণের এই বিনিময়, আহা, শাশ্বত হোক।


    সম্পাদনায় - অমিত বিশ্বাস

কল্যাণ চট্টোপাধ্যায়





কামসূত্র ১

তোমার শরীরের সবচেয়ে নরম,
তুলতুলে জায়গায় আমি জিভ রাখছি
তোমার শরীরের অন্তর অঞ্চলে আমি জিভ রাখছি
আর রাতের সব অন্ধকার দিনের মতো
সাদা হয়ে উঠছে---
তোমার সাদা শরীর থেকে ঠিকরে বেরিয়ে আসছে
কাঞ্চনজঙ্ঘা থেকে ফিরে আসা সকালের রোদ
আমার শরীর ও মন জুড়িয়ে আসছে
অনন্ত বছর ধরে জ্বলে আসা আমার
শরীর ও মন জুড়িয়ে আসছে
আর আমাদের যৌথ শরীর থেকে বেরিয়ে আসছে

বসন্তের রেণু




























কামসূত্র ২

রতিকালীন রাত্রি আমি
জড়িয়ে ধরেছি বুকের ভেতর
তোমার ও বুক দুটো আমার
বুকের মধ্যে ঢুকিয়ে দাও
আমার আর কোনোকিছু সহ্য হচ্ছে না, প্লিজ
আমাকে আরো গভীরে নিয়ে যাও
যেখানে তোমার তরঙ্গের পর্দা ফেটে
স্রোতরস গড়িয়ে পড়ে সারা বিছানায়
























কামসূত্র ৩

মনেতে হজম করার মতো কিছু খাবার
তোমার শরীর থেকে আমি জিভ দিয়ে চেটে তুলছি
মনেতে হজম করার মতো কিছু স্বাদ---
শরীরে শরীর দিয়েছি উপুর করে
উথালপাথাল উথালপাথাল প্রদীপ দানি
সলতে তখন তেল রসেতে হাবুডুবু
আগুন খুবই কাছে আছে
কয়েক সেমি দূরে
জ্বালতে যাচ্ছি আমরা দু’জন
আর একটু পথ ঘুরে






















কামসূত্র ৪

কামনা ও বাসনার ভারে দু’জনের শরীর ক্রমে
স্ফিত হতে থাকে
শরীরের ভাঁজ গুপ্ত অঞ্চল
কখনও শরীর কখনও জিভ
ঠেকে ঠেকে যায়
মুঠোর মধ্যে পাহাড় পর্ব্ত খাদ
কেউ আমরা কাউকে বাঁচাবো না আজ
এই তো দুটো শরীরে আগুন জ্বালিয়ে
কূয়োয় দেব ঝাঁপ





নবেন্দু বিকাশ রায়

১৭ইনভেম্বর, ২০১৪ থেকে সিতাংশু কবিতার মৃত্যু ডিক্লেয়ার করে


খ. অভ্যস্ত আলোকপাত ও সন্দেহের অবতারণা

আলোর অভাবই লোকটাকে টানছে
নিরপেক্ষ জানলা এ কথা স্বীকার করলে
মাথার মধ্যে একে একে ভেঙে যেতে থাকে রাস্তার কিয়দংশ, ঝোপ, মানুষ, ঘরবাড়ির সেন্স

একটি চতুষ্কোণের ভেতর ভ্রূণাকার আলো
অর্থাৎ সিতাংশু ভাবছে অ্যানাটমি নিয়ে
জন্ম থেকে তার এই আলো দ্যাখা ফুরোয় না; এমনকি তোমার শীতের কাছে আমিটিও ফুরোয়

মাছের চোখ নিয়ে লোকটা তাকিয়ে আছে আলোর দিকে

আলো হয়ত তার অভাব থেকে সরতে পারছে না

ফিরছে দু’জনেই



গ. সার্কাসের তাঁবু, কবিতা বেঁকে গেলে সোজা করতে নেই


দিক বলতে দিগন্ত, যেকোনো দিগম্বর নভেম্বর হতে পারলে
কবিতাটা হয়ত লেখাই হত না। হয়েছে কি? আদৌ দারোগা
তার দর্পণে দেখেছে
মাথা কাটা মাঠের ওপর ফাটা পায়ের কনভয়? ওহ্! মা’টির যে কি গ্যাছে
সমস্ত বাবার দোহাই বোঝাই
ফসল সংস্কার মাত্র। খিদের কাজ আরও গভীরে।
কেন যে মেয়েরা ধ্রুপদ বোঝেনা

নভেম্বর জুড়ে কচি কচি দিগন্ত, নভেম্বর জুড়ে একটাই কবিতা লেখা হয়েছে।
হয়ত কবিতা থেকে দিগন্ত খুলেছিল সিতাংশু
বিশুদ্ধ চা- সেবিকাটির উঠে দাঁড়ানোটা ভোর হলে
সে লেখে

যেকোনো সেলাই সাঁকো হতে পারে কি? সূচিকাজে সায় দিয়ে
যত না আড়াল ততোধিক সিতাংশু ডুবেছে

চেনা প্লটে ফিরে আসার আলোয় অভিভূত

তৎসম মুখ সব।  



নভেরা হোসেন

লুসিফার

তুমি কথা বলছোনা
তুমি একবারও কথা বলছোনা
তুমি নীরব হয়ে আছো
নীরবতা আজ কথা বলছে
নীরবতা আজ ভাষা পেয়েছে
তুমি জানতে না যেসব এল দরাদো-হারানো দরজা
খুলে যাচ্ছে সব
সিংহ দরজার ঐপাশে মসী হাতে নারী
এই পাশে অসি হাতে পুরুষ
সকলেই কবিতাভঞ্জন
সকলেই মিথুন রাশি-
নীল নীল তারা
একটা দুটো তারা ঝরছে এরকম দিনে-
নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে
ত্বকের উপরে ছেনি-কাচি
ত্বক ত্বককে চাইছে
ঠোঁট উষ্ণ ঠোঁটকে
নিমেষে সব বদলে গেল
কুলা-কান-কাকাতুয়া-
জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড পুড়ছে
ময়ূর-ময়ূরী-রাজহাঁস,
চোখ চোখকে দেখছে
পাথর পাথরকে
বৃষ্টি অনাগত
তোমার শরীরে উল্কা
হাতে বাজুবন্দ
হাতে তলোয়ার
ফিরে যাচ্ছ কয়েক শতক আগে
তুমুল যুদ্ধ, সেনাপতি নিহত
আবাবিল পাখিসব পাথর ছুড়ছে
এইসব পাথর ধুলা ধুলা খেলা
এইসব স্মৃতি মধু মধু খেলা
মধুর কৌটায় লুকানো আছে প্রাণ-ভোমরা
যদি পাও অষ্টরম্ভা
যদি না পাও কাঁটার মুকুট
খুঁজে খুঁজে হয়রান প্রতিটি আত্মা
সবকিছু মুছে দাও
চক দিয়ে ঘর কাটা
শ্লেটের শরীর
আঁশ দিয়ে গাঁথা মাছ-

লুসিফার তুমি নীরবে ঘুমাও
তোমার জানালায় জোড়া ঘুঘু
তোমার শরীরে আলো

অন্ধকারের খোঁজে




অতনু ভট্টাচার্য

তুমি ১

পথ কে পা দিয়ে মেপে মেপে ভুলে যাওয়া, এক সময় ঘড়িকেও প্রয়োজন নেই, মাথার ওপর আকাশ থাকলেই হল, চুপ করে হাওয়া এসে বুকের বোতাম খুলে রোম রোম হয়ে গেলে তুমি   যুক্তি শৃঙ্খলতার খপ্পরে না পড়ে ভাঙতে ভাঙতে এগিয়ে যাচ্ছো,এই হল ডুব সাঁতার, দম বাঁচিয়ে রাখার কৌশল, আছি ও নেই এক সঙ্গে হাত ধরে হাঁটা, ক্ষয় থেকে ফুটে ওঠা বিন্দু-চিন্তা তোমার, অদ্ভুত দর্পণে একা-বোকার মত তুমি আর নেই 

তুমি ২

অন্তিম চাহুনির বর্ণনা তুমি, চোখের আড়াল থেকে আসা চেরা আলো, অসংখ্য দরজা থেকে উঁকি মারো বলে আমিও কি শুধুই আমি থাকি ? থাকতে পারি ? এভাবেই নির্বাচনহীন, পরিচয়ও   বহুমাত্রিক , শব্দের খড়কুটো ধরে এই যে ঢেউ ভাঙছে কেউ, সে  তুমি না আমি ? কে কার উদ্ধার ? কে কার মৃত্যু ?

তুমি ৩

মাদুলি-তাবিজ পর না, অনুশীলনের সাফল্য থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছো, অবধারিত তিন ছক্কা পুটে সিঁড়ি নয় সাপের মুখ ধরে বেয়ে নামো , এত মগ্ন এত নিঃসঙ্গ আর স্নায়বিক যে তোমাকে ছুঁতে গিয়ে নিজেকে ভেঙে ফেলি, যত ভাঙি ততই পারস্পরিক, এই ভাবে কাউন্ট ডাউনের শূন্য মুহূর্ত অবধি,ভাগ্যিস তুমি পুণরারম্ভ জানো, যে কোনও বিন্দু থেকে শুরু করতে পারো, প্রতিবার নতুন সংকেত দিয়ে আমাকে রেখেছো জাগিয়ে পূর্বাপর পূর্বপরিকল্পনাবিহীন 

তুমি ৪

দু-দন্ড তাকিয়েই বুঝেছিলাম তোমার বিষয় মুখ বদলে গেছে, জীবনের শেষ আয়নাটিও হারিয়ে এসেছো সেচ্ছায়, সেই ছলছল গলার গান আজ কেমন ধাতব, অবয়বে পাহারের কাঠিন্য ও শীর্ষ জেগে আছে, চোখের মণিকোটরে আত্মগোপন করে আছে অজ্ঞাত বর্ণমালা, তোমাকে দূর থেকে অনেক দূর থেকে স্পর্শ করি যেই উৎস মুখ থেকে প্রবাহের টের পাই, কাঠিন্য ও কোমল মিলেমিশে যেন কোন সুদূরের ডাক, পাকদন্ডী কাকে বলে অভিধান অতিক্রম করে বুঝতে পেরেছি         


তুমি ৫

তোমার অন্তহীন জার্নালের কোনও এক পৃষ্ঠা থেকে নেমে এসে গল্প জুরে দিল, গল্পের মুড়ো  নিজের ল্যাজাকে গুটিয়ে বালিশ করে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে গেলো আর বাস্তবের অসম্পূর্নতাকে ভরাট করবে বলে স্বপ্নে নেমে গেলো তারপর মহিম হালদার স্ট্রিট সোজা আকাশ উঁচু বাইপাসে সেই থেকে একটা শূন্যতা আগলে রেখেছি

তুমি ৬

ঘড়ি ও টেলিফোনের অস্থিরতা থেকে বহু দূরে আছো, এখনও চিঠি লেখো, তোমার চিঠি এসে পড়ে থাকে ঘরের মেঝেতে, যখন পড়ি যেন অন্তহীন বিনিময়, যেন গতজন্মের লুপ্ত সেতুর দুঃসাধ্য অনুধাবন, তোমার জমানো চিঠি থেকে নেমে আসে দর্পণের গহ্বর, আমি নেমে যাই, নেমে যেতে থাকি, যতদূর বিপুল অন্তরালে... তুমি মূর্ত হয়ে আছো !

তুমি ৭

শিংওলা রূপসী তুমি, তুমি লুকিয়ে এসেছো এই জঞ্জাল থেকে নিয়ে যাবে বলে, ভাবি কত দুঃসাহস নিয়ে এসেছো,এখন তোমাকেই লুকিয়ে রাখাই কাজ,তোমাকে লুকিয়ে রাখি অক্ষরে অক্ষরে,এভাবেই আলিঙ্গন লেহন ও সঙ্গম,এভাবেই বিমূর্ত হয়ে উঠি আমরা প্রতিবাদ ও ঔদাস্যে...   

তুমি ৮

জন্ম থেকে মৃত্যু শব্দ অবধি ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত , শেখালে শব্দহীনতার অদৃশ্যে পৌঁছে যাওয়া, বললে দৃষ্টি ফেরাও, সেই থেকে মগ্ন ও ব্যস্ত সমস্ত বাহুল্য মুছে দিতে

তুমি ৯

তুমি যুগপৎ দর্শক তাই তুমি সৃষ্টিশীল আমি শুধুই কর্মক্লান্ত বোকা,এই আক্ষেপ বশত তুমি চিৎ করেছো আমায় , আমাকেও কিছু দৃষ্টিসুখ দিতে দিতে সহমর্মি থেকেছো

  
তুমি ১০

পোশাকের শৃঙ্গার ও ভঙ্গির সন্ত্রাস শুধু... এর মধ্যেই তুমি আমায় খুঁজছো আমিও তোমায় খুঁজছি,একটাই রামধনুসাঁকো আমিও আঁকছি তুমিও আঁকছো দু- দিক থেকে, আঁকতে আঁকতেই দেখা হবে ভাবছি, একটা যৌথ টঙ্কারের আশা আর সেই সঙ্গে কম্পাঙ্ক টুকে রাখার মত কেউ ...
                                   (ছোঃ অতনু ছোঃ তোর তাত্ত্বিক পাঁয়তারাগুলো বরং এরচে ভালো ছিল... ) 




  

অমিতাভ মৈত্র



জুতো

তোমার নামটা একটু অদ্ভুত হেনরি
   এই গরম আর কর্ডের কাপড়ের জন্য
শুকনো ঘাসে আগুন জেগে আছে
                           যখন জুতোই প্রমাণ দিচ্ছে তুমি ঘুমিয়ে
কাল চাবুকের দিকে দৌড়েছিলে
                           ক্ষুধার্তের মতো মার খেয়েছিলে
আজ তোমার জন্যই জাহাজের চোখধাঁধানো ছবি বন্দরে ঢুকছে
ছবির ঢেউয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে
                         যখন জুতোই প্রমাণ দিচ্ছে তুমি ঘুমিয়ে




খ্যাতি-অখ্যাতির নেপথ্যে

এই বারান্দায় দাঁড়িয়েই হেনরি বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিল-
                                    স্রেফ পনের মিনিটের জন্যই যদিও।
বারান্দা থেকে নেমে সেই হেনরিই আবার সাধারণ হয়ে যায়
আবার গভীর রাতে বাড়ি ফিরতে শুরু করে
আলো ফোটার আগেই পা টিপে টিপে বেরিয়ে যায়

কিছুটা দ্বিধা আর সংশয় নিয়ে, কিছুটা খেলাচ্ছলে
বারান্দা এরপর নিজেই একদিন এসে দাঁড়ায় সেই বারান্দায়
তারপর যেমন হয়-
দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই বারান্দা নিজেও বিখ্যাত হয়ে ওঠে-

স্রেফ পনের মিনিটের জন্যই যদিও।


তুষ্টি ভট্টাচার্য

কার্নিশ

বিন্দু থেকে সরে যাচ্ছে সহ্য
সরতে সরতে কার্নিশের ধার ঘেঁসে
একটু থামলো যেই -

চলন থেমে যায় নি
পায়ের পাতা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে
কাঁপুনি টের পাচ্ছ?

চমক লুকিয়ে আছে বিদ্যুতের খাঁজে
ক্যানেস্তারা পিটিয়ে
ঘুম তাড়াচ্ছে দারোয়ান




চৌকাঠ

এখানেও ছিল  চৌকাঠের গল্প
আধুনিক বাড়িতে যেমন থাকে না
উঠোন, পাঁচিল আর রোদ্দুর।
হোঁচট খাওয়া থেকে গোড়ালির ফুলে ওঠা পর্যন্ত যথাযথ।
লোহার বালতি ঠোনা খেয়ে
চলকে ওঠা চোকাঠ কখনই উহ্‌ করতে শেখে নি। 
ফেটে যাওয়া ধার দিয়ে গড়িয়ে নামা জল
চৌকাঠ পেরিয়ে যাওয়ার ক্লান্তিতে
ঘাড় নুইয়ে পড়া বালতির কাছে ফিরে যেতে চায়।

আমাদের ঘরে চৌকাঠ নেই
যখন তখন পেরিয়ে যাওয়া আছে

ফেরাও আছে রাতারাতি





বিশ্বরূপ দে সরকার

edvard munch


প্রযত্নে, জুন

আমার ভেতরে নদী গড়িয়ে নামছে
সঙ্গে অ্যালজোলাম, সঙ্গে ১০৮ প্রভূপাদ বিষাদ গোস্বামী
দরজা বাতাস বলছে
ভেতরে মাংস পদাবলী, ভেতরে তন্ত্রের ভিটামিন
আয়নায় ফিরে এসে কী লাভ
তুমি মিরর মানোনা আমি জানি
প্রতিবিম্ব শ্বাস নেবে এইরূপ হাওয়া
পা থেকে সেরিব্রাল অবধি ওয়াশিংটন

আত্মনিয়ন্ত্রণ কোনো অ্যান্টিবায়োটিক নয়
৫০ হাজার শুক্রবার আসলেও
এই শূন্যতা... অতি সূক্ষ্ম ধুলোবালির ঐক্য
ফিরে যাবে না
এই টক-টক সন্ধেগুলো বোরড করে দেবে


হাফটার্ন

রঙগুলো মানানসই কাচপোকা হলে
দৃষ্টিভঙ্গি উড়ে যেত
আকাশ সূত্রে ভাসত পটাশিয়ামের ভোর
কালো কমলা কতরকমের উপেক্ষা
গঞ্জে লেবু-লজেন্স ভাইবোন
স্টেশনের বিষয় হয়ে আছে

লাল পিঁপড়ের মুখে মিহিদানার রিংটোন

এখনও কিছু সম্পর্কের কপি পাওয়া যাচ্ছে
সংগ্রহে রাখার মতো মনখারাপের রবিবার
বারমুডা পরা মফস্বলের বেলা
ধানগাছের পাশে গা-খসা সিমেন্টের
‘অসীম আর ফিরবে না’
জাগাবার সাহস ভাঙাতে নেই
না পারার পুরনো এই দেশে



রিপোর্ট

অবসাদের ওপর আলো ফেলছি
স্নায়ুর সমস্ত রং কভার করছে না
প্রোটিনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আমরা সাড়া নিচ্ছি
কেবল হলুদ কুসুমের ওপরে সাদা অ্যালবুমিন
বাউন্ডারি লাইনের বাইরে তখন রোদ চলে যাচ্ছে

দীর্ঘশ্বাসের বোতাম ঘর পেরোচ্ছে
জার্নি বোলো না তাকে
শুধু হাল্কা ভিটামিন

ছড়িয়ে পড়ছে সাময়িক


ধীমান চক্রবর্তী



শুরু

সাপ আর সমুদ্র
একই সাথে খোলস পালটায়।
মা-র পেটের ভিতর দোলনা ।মাঝে মাঝে
মনে হয়, দুলতে দুলতে সে সারাজীবন
একই গান গাইছে। ঘিলু, লম্বা বালিয়ারি
ও দধিমঙ্গল। পরস্পরকে চোখে চোখে রাখে।
হাঁটু মুড়ে বসে মেয়েটি।
শেষ কোথায় আজও জানি না।
কেবল টিভির লাইনে মাথা রেখে চাঁদ
ও মৃত বিড়াল, যুদ্ধজয়ের গান গাইছে।
শিশি ভাঙার শব্দে, খুচরো ফেলার শব্দে,-
কে যেন বাড়ির দিকে আসা
উড়োজাহাজটি হাইজ্যাক করলো।

আমায় ছুঁয়ে দিলেই ছাই।
খুনসুটির লম্বা বাতিঘর। আজ
আয়নায় মুখ দেখছে অন্ধকার।


ফল

গাড়ির হর্নের ভিতর লিচুগুলি। পথ দেখায়।
পুরানো কুয়ো গানের দু-গালে হাত রেখে।
শুনছে এরোপ্লেনের চিঠি আর হাত নাড়া।
গভীর রাতে চা-বাগান সাফ করে
বারান্দার মোজাইক। সাফ করে
চিন্তা-ভাবনা এবং ভুলগুলি।
বেরনোর পথ জানা না থাকলে,
কোনও বইয়ের ভিতর ঢোকা উচিত নয়।
একথা মনে হলেই কেউ কেউ জুতো পরতে
ভুলে যায়। পারফিউম, এক্কাগাড়ি,
ভাঙা বোতল নিয়ে যায় ছোটবেলায়,
রথের মেলায়। ছোটার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখি।
প্রস্তুত রাখি পেনড্রাইভ, মাউস ও
অলীক দুনিয়া থেকে উড়ে যাওয়া।

ধীমানের মৃত্যু আমাকে আগ্রহী করে তোলে।



সম্ভাবনা

জলে ধাক্কা দিয়ে মাছ দরজা খুলতে বলে।
বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরলে, 
মেয়েদের ডাকনাম হয়ে যায় বৃষ্টি।
পা ধোওয়ার সময় শুধুমাত্র কেউ কেউ
মাটির দিকে তাকায়। হলুদ মদ।
ফিসফিস করে কাচের গ্লাসকে ডাকছে।
মৃত ঠাকুমা বিকেলবেলা
ধুয়ে-মুছে যা তাকে সাজিয়ে রেখেছিল।
রান্নাঘর পেরলো হাওয়া।
কেউ নামলো। মুখখানি।
পেরলো জম্পুই হিলের টানা বারান্দা।
কপালে গুলির অন্ধকার গর্ত।
তাকে ঘিরে নাচছে আগুন। বুদ্ধর
মারুতি ভ্যান। জিভের উপর আঙুল।
রানওয়ে। উলুধ্বনি। ছোট্ট ছুঁচ -
বিঁধলে ভূমিকম্প হতে পারে।


গানেরও আগে যে সুর ছিল ছিল পৃথিবীতে।
হতে পারে।
তার সাথে আমার বিবাহ।